শরীরের কিছু অবস্থাভেদে ১২ বছর বয়সের কিছু আগে কিংবা পরে মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হয়, যেটা একটা নিয়মিত শারীরিক প্রক্রিয়া।
1. Remove a Pad
2. Peel Off the release paper
3. Press & Secure the wings around the sides
4.Ready to Go Enjoy !
মোনালিসা পিরিয়ড হ্যান্ডবুকের ফ্রি পিডিএফ ভার্শনে পাবে পিরিয়ড নিয়ে যাবতীয় তথ্য। জানবে পিরিয়ড কী, আর এই সময়টায় ভালো থাকতে কী কী করা দরকার হবে।
শরীরের কিছু অবস্থাভেদে ১২ বছর বয়সের কিছু আগে কিংবা পরে মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হয়, যেটা একটা নিয়মিত শারীরিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে এটাকে ‘রক্তস্রাব’ বা ‘মাসিক’ও বলা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ মেয়ের ক্ষেত্রেই ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে পিরিয়ড নিয়মিত হয়ে যেতে দেখা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক সময়েই সংস্কার এবং নানান জড়তার কারণে মেয়েটিকে আগে থেকে পিরিয়ডের বিষয়ে জানানো হয় না। ফলে হঠাৎ একদিন নিজের যোনিপথ দিয়ে রক্তপাত দেখে ভয় পেয়ে যাওয়াটা তোমার পক্ষে যথেষ্ট স্বাভাবিক। এজন্যেও, প্রকৃতপক্ষে জীবনে প্রথম পিরিয়ড আসার আগেই পিরিয়ড সম্পর্কে ভালোভাবে জানাটা তোমার জন্য দরকারি।
পিরিয়ড নিয়ে নানান প্রশ্ন মনে আসতে পারে। এই সময়টায় স্বাভাবিকভাবে তোমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে তোমার পরিবার। প্রথম পিরিয়ডের যাত্রাটা যেন নিজেকে লুকিয়ে রাখার কষ্টে পার করতে না হয়, সেজন্য পরিবারের খেয়াল ও মনোযোগ বেশ কার্যকর সহযোগিতার ভূমিকা রাখতে পারে। আর, ‘মোনালিসা’ও তাই তোমাকে জানাচ্ছে পিরিয়ড-এর আগাগোড়া সব।
প্রথম পিরিয়ড শুরুর আগে তোমার শরীরে কেমন স্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিতে পারে?
দেখ তো, তোমার মধ্যে কি এই পরিবর্তনগুলো আসছে?
তোমার বড় হওয়ার সময়কার এই পরিবর্তনগুলোর মানে হচ্ছে যে-কোনো সময়ে আসতে পারে তোমার প্রথম পিরিয়ড।
পিরিয়ডের সময়টায় নিজের যত্ন
প্রত্যেক পিরিয়ড শুরুর আগে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
— পেটে, পিঠে বা পায়ে ব্যথা
— পেট ফাঁপা অনুভব (পেট ভরা ভাব কিংবা ফুলে গেছে মনে হওয়া)
— স্তনে ব্যথা বা কালশিটে ভাব
— হঠাৎ ব্রণ ওঠা
— সহজেই আর ঘন ঘন মেজাজের পরিবর্তন (ছোটখাটো বিষয়ে হঠাৎ করে রেগে যাওয়া কিংবা মন খারাপ লাগা)
— ক্লান্তির অনুভূতি
প্রথম পিরিয়ড শেষে তোমার মধ্যে কী পরিবর্তন আসবে?
প্রথম পিরিয়ডের পরপরই প্রত্যেক মাসে নিয়ম মেনে একইভাবে পিরিয়ড না-ও হতে পারে৷ তবে ২-৩ বছরে স্বাভাবিকভাবে প্রতি ৪-৫ সপ্তাহে একবার পিরিয়ডের রুটিন ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা।
পিরিয়ডের অধ্যায় জীবনে শুরু হয়ে গেলে, শারীরিক ও মানসিক দুইদিক থেকেই নানান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে থাকার পাশাপাশি কারো কারো রক্তপাতের প্রবাহ একটু ভারী হয়। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে খুব অভ্যস্ত না হওয়ায় অথবা ঠিক ন্যাপকিন ব্যবহার না করার কারণে মাঝেমধ্যে রক্ত লিক করাটাও অনেকের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। অনেকেরই বমি বমি ভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া এবং তলপেটে-কোমরে-পায়ে অবশ ভাব কিংবা ব্যথা অনুভব হওয়ার মতো সমস্যাগুলোও দেখা দেয় কমবেশি। সেজন্যেই, আগে জানা না থাকলে এই অন্যরকম সময়গুলোর জন্য নিজেকে তৈরি রাখাটা যে-কারো জন্য কঠিন হতেই পারে।
পিরিয়ডের মতো বিষয় নিয়ে কথা বলতে তোমার বাবা-মা’র মাঝে কিছুটা অস্বস্তিবোধ থাকতে পারে। তবে তোমার নিজের-সহ পরিবারের সবারই এটা বোঝা প্রয়োজন যে পিরিয়ডের বিষয়টা লজ্জাজনক বা ভীতিকর কোনো অসুখ না, বরং এই পরিবর্তনগুলোর প্রতি একটু মনোযোগী হয়ে বুঝে নিলে স্বাস্থ্য ও শরীর সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া সহজ হয়ে ওঠে। তাই, একটা নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানোর পর পিরিয়ড সম্পর্কে মা-বাবা-সহ পরিবারের নির্ভরযোগ্য আপন মানুষদের মধ্যে এ-বিষয়ে কথা হওয়া ভালো।

অভিভাবকেরা কীভাবে ব্যাপারটি সামাল দিবেন?

পিরিয়ডের সময় কেন তলপেটে ব্যথা হয়?
পিরিয়ড চলার সময়ে জরায়ুর আস্তরণ ‘প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন’ (prostaglandin) নামে একটি হরমোন তৈরি করে থাকে, যার কারণে তোমার জরায়ু সংকুচিত হতে থাকে। পিরিয়ডে পেটব্যথা হওয়ার এটিই মূল কারণ। বিশেষ করে প্রথম পিরিয়ডের সময়ে তোমার ব্যথা অতিরিক্ত হলে তার অর্থ হচ্ছে তোমার শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন বেশি পরিমাণে তৈরি হচ্ছে অথবা তোমার ওপর এই হরমোনটির প্রভাবের সংবেদনশীলতা একটু বেশি।
পিরিয়ডের সময়কার পেটের cramp বা ব্যথাটার একটা নাম হচ্ছে primary dysmenorrhea. বেশিরভাগ মেয়েরই এই ব্যথা কমবেশি হয়ে থাকে। এটি প্রথম পিরিয়ডের সময় শুরু হলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমে যেতে পারে।
আরেকটা ধরনের ব্যথা হচ্ছে secondary dysmenorrhea, যেটা সরাসরি পিরিয়ডের কারণে না হয়ে বরং অন্য শারীরিক সমস্যা থেকে সৃষ্টি হওয়া cramp. এই ব্যথাটা একটু বেশি হয়ে থাকে, এবং ব্যথার ধরনটাও বেশ অন্যরকম। ব্যথার কারণগুলো এক্ষেত্রে নানান রকমের হতে পারে।


সঠিক স্যানিটারি প্যাড বাছাই করবে কীভাবে?
পিরিয়ডের সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তোমার জন্য উপযুক্ত স্যানিটারি প্যাড, যা এদিক-ওদিক কিংবা পাশ দিয়ে রক্তের বেরিয়ে যাওয়া বা লিকেজ (leakage) ছাড়াই পিরিয়ডের রক্ত ধরে রাখতে বা শোষণ (absorb) করে নিতে পারবে। এছাড়াও, নিশ্চিত করতে হবে প্যাডটা যেন আরামদায়ক হয় এবং যোনিতে চুলকানি বা জ্বালা সৃষ্টি করার মতো কোনো প্রকার সংক্রমণ (vaginal infection) না ঘটায়।
স্যানিটারি প্যাড বাছাই করার সময় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা দরকার:
১. ভালো শোষণক্ষমতা
একটা ভালো স্যানিটারি প্যাড অল্প সময়ের মধ্যে ভালো পরিমাণে রক্ত শোষণ করতে পারে। শোষিত রক্ত যখন প্যাডের মধ্যের অংশেই আটকে দিতে পারে, তখন প্যাডে কোনোরকম চাপ পড়ার ঘটনায় (যেমন, বসার সময়) পাশ দিয়ে পিছনে ছড়িয়ে যাওয়ার (back flow) সম্ভাবনাও কমে। রক্ত ঠিকভাবে কেন্দ্রভাগে শোষিত হয়েছে কিনা, তা বুঝবার একটি উপায় হলো প্যাডের উপরের রক্তের রং খেয়াল করা। উজ্জ্বল বা তাজা রক্তের রং দেখলে বুঝতে হবে প্যাডটির শোষণক্ষমতা কম, যা back flow আটকাতে পারবে না। তাই, এর থেকে হতে পারে লিকেজ। কিন্তু রংটি যদি হালকা লাল বা আবছা লাল হয়, তাহলে এর অর্থ হলো রক্ত কার্যকরভাবে শোষিত হয়েছে।
২. প্যাডের দৈর্ঘ্য
পিরিয়ডের শুরুতে সাধারণত রক্তপাত বেশি হয়, তাই সেই রক্তকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে শোষণ করতে পারে এমন একটি প্যাড বেছে নেওয়া দরকার হয়।
সময়ের হিসেবে রক্তের প্রবাহ অনুযায়ী স্যানিটারি প্যাডগুলোকে day এবং night ক্যাটেগোরিতে ভাগ করা হয়। ডে প্যাডগুলোর দৈর্ঘ্য ছোট (১৭০ মিঃমিঃ থেকে ২৫০ মিঃমিঃ পর্যন্ত) হয়ে থাকে এবং নাইট প্যাডগুলোর দৈর্ঘ্য হয় ৩৫০ মিঃমিঃ বা তার বেশি। মান ঠিক রেখে প্যাড যত লম্বা হয়, স্বাভাবিকভাবে তত বেশি রক্ত শোষণ করতে পারে। শুয়ে থাকার সময় পিছনের লিকেজ কার্যকরভাবে আটকানোর জন্য ভালো নাইট প্যাডে চওড়া hip guard থাকে।
৩. উপাদানগত আরাম
স্যানিটারি ন্যাপকিন তুলা, cotton বা net জাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে। প্রত্যেকের ত্বক আলাদা, তাই এভাবে নির্দিষ্ট উপকরণের সাথে আরামের মাত্রাও আলাদা। কারো হয়তো নরম তুলার প্যাড পছন্দ, আবার কারো নেটের top layer পছন্দ হতে পারে। কিন্তু উপাদানের ধরন বাতাস চলাচলকে প্রভাবিত করে।
যেই দিনগুলোতে রক্তপাত কম থাকে, তখন যোনিতে আর্দ্রতা বা ভেজা ভাবের মাত্রাও কম থাকে। কিন্তু উপাদান হিসেবে কোমল না হলে স্যানিটারি প্যাডের সাথে ত্বকের ক্রমাগত ঘষা লাগায় ত্বক লাল হয়ে যেতে দেখা যায়। একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো— পিরিয়ডের সময়ে যোনি ও আশপাশের অঞ্চলে (pubic area) ফুসকুড়ি বা rash হবেই। কিন্তু নরম ও আরামদায়ক স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করে এই সমস্যাটি কমানো যেতে পারে।